বাংলাদেশের সমাজ ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপন্থী ও উদার। এ ভূমির কয়েক শ বছরের ইতিহাস বলছে, আঁটসাঁট শাস্ত্রবাদী ও ধর্মীয় মতাদর্শের জায়গায় বৈষ্ণব, বাউল, নাথ, যোগী, সুফিদের সহজিয়া মতবাদের প্রাধান্য সমাজে প্রবলভাবেই ছিল। রাজনৈতিক মতবাদের ইতিহাস এখানে অপেক্ষাকৃত নতুন। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের হাত ধরে এর চর্চা শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের শেষ ভাগে।
রাজনৈতিক মতবাদের ক্ষেত্রেও এ ভূমির সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বিভিন্ন সময়ে মধ্যপন্থী রাজনীতিকেই বেছে নিয়েছে। ডান ও বাম মতাদর্শভিত্তিক রাজনীতির চেয়ে বরং বাস্তববাদী রাজনীতিই বেশির ভাগের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।ব্রিটিশ আমলে অনুশীলন, যুগান্তর দল এবং পরবর্তী সময়ে সূর্য সেন-প্রীতিলতাদের বিপ্লববাদী আন্দোলন সমাজে প্রবল আলোড়ন তুলেছিল। তাঁদের সাহস, বিদ্রোহ ও আত্মত্যাগ মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার স্পৃহাকে জাগিয়ে তুলেছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনীতির হাত ধরেই ব্রিটিশ প্রত্যক্ষ উপনিবেশের অবসান হয়েছিল।প্রগতিশীল রাজনীতি যখন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কাঠগড়ায় চব্বিশের অভ্যুত্থান ও প্রগতিশীল রাজনীতির আত্মপর্যালোচনা ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলমান ‘নবাব–নাইট–খান বাহাদুরদের’ রাজনৈতিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
সূত্র: প্রথম আলো